যা আছে সিনেমায়সিনেমাটিতে জবসের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে চিত্রায়িত করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পটভূমিও দেখানো হয়েছে ফ্ল্যাশব্যাক করে। তিনটি ভিন্ন সময়ের ঘটনাকে একসুতোয় বাঁধতে জিকিউ সাময়িকীর সাংবাদিকের চরিত্রে জোয়েল ফোরজেইমার নামের কাল্পনিক চরিত্রের জন্ম দিয়েছেন চিত্রনাট্যকার। এক সাক্ষাৎকারে জোয়েলকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব ঘটনা বলছেন জবস, প্রতিটি ঘটনাই পেছনে ফিরে দেখানো হচ্ছে। সিনেমাটি সাজানো হয়েছে এভাবেই।
প্রথম মেকিনটোশ, নেক্সট কম্পিউটার ও আইম্যাক—এই তিনটি যুগান্তকারী কম্পিউটার যেমন পার্সোনাল কম্পিউটারের ইতিহাস বদলে দিয়েছে, তেমনই স্টিভ জবসের জীবনের মোড়ও বদলে দিয়েছে বলেই ধারণা চিত্রনাট্যকারের। প্রতিটি ঘটনাই গত শতাব্দীর। তিনটি ঘটনার পেছনের ঘটনা নিয়েই ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লিন্ট সেন্টারে অ্যাপলের শেয়ারহোল্ডারদের সামনে প্রথমবারের মতো আসল মেকিনটোশ দেখানো হয়। সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্টিভ ওজনিয়াক ও শুরুর দিকের অ্যাপল সৃজনশীল দলের সদস্যদের গল্প। সমসাময়িক সময়ে জবসের প্রথম সন্তান লিসাকেও দেখানো হয়েছে। লিসাকে মেয়ে হিসেবে মেনে নিতে প্রথমে আপত্তি জানায় জবস। সহকর্মী ও বন্ধু জোয়ানা হফম্যান লিসাকে মেনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন জবসকে। পরবর্তী সময়ে পেপসিকো থেকে জন স্কুলিকে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদে বসানো হলে স্কুলির সঙ্গে জবসের ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। মতের অমিল, ভিন্ন ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণের জন্য দুজনের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছালে জবসকে অ্যাপল থেকে বিতাড়িত করেন স্কুলি। অ্যাপল থেকে বেরিয়ে জবস প্রতিষ্ঠা করেন নেক্সট কম্পিউটার। সফল একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভাব হয় নেক্সট কম্পিউটারের। জবসের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে তাঁর মেয়ে লিসার কথাও বেশ গুরুত্ব নিয়ে দেখানো হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে। সিনেমাটি শেষ হয় আইম্যাকের প্রকাশের মাধ্যমে।
তিনটি অতীত সময়ের আবহ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটের ফিল্ম। ১৯৮৪ সালের ঘটনাগুলো ধারণ করা হয়েছে ১৬ মিলিমিটার ফিল্মে। ১৯৮৮ সালের ঘটনা ধারণে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটার ফিল্ম। ছবির শেষ দৃশ্যগুলো ডিজিটাল ফরম্যাটে ধারণ করা হয়। একই সিনেমা তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটে ধারণ করে সেই সময়ের ঘটনাগুলোকে হুবহু চিত্রায়িত করায় পরিচালক ড্যানি বোয়েল প্রশংসার দাবিদার বটে।
তথ্যসূত্র: ম্যাকরিউমার ও ম্যাকওয়ার্ল্ড...
No comments:
Post a Comment